পরিবার মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সুখী পরিবারই জীবনে প্রশান্তি, মানসিক স্বস্তি ও সমাজে স্থিতি আনে। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি—অবহেলা, দায়িত্বহীনতা, অহংকার ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও অশান্তি বেড়ে যায়। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মান, শ্বশুর-শাশুড়ি ও বৌয়ের সুসম্পর্ক, সন্তানদের কর্তব্য পালন—এসব মিলেই একটি শান্তিপূর্ণ পরিবারের ভিত্তি গড়ে ওঠে।
ইসলামের শিক্ষা হলো—ভালোবাসা, সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ ছাড়া পরিবার কখনো স্থায়ী শান্তি পাবে না। আজকের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা হলো—স্ত্রীর জন্য শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত হাদীসে নেই। অনেকেই এ নিয়ে বিতর্ক করেন। কিন্তু এটি ভুল। হাদীসে কোথাও লেখা নেই যে খেদমত করা নিষিদ্ধ। বরং নবীজী (সা.) নিজে খেদমতে খালক করেছেন। খেদমতের ফজিলত সকলের জন্য—মানুষ হোক, জীব-জন্তু হোক বা পশু-পাখি—সমানভাবে প্রযোজ্য। নবীজি (সা.) খেদমতের জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। তাই শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমতের সময় “হাদীসে নেই” বলে অস্বীকার করা মূলত ভুল।
মূল সমস্যা হলো, আমরা আমাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে বুঝি না। নিজের কর্তব্য ভুলে অন্যের উপর চাপ দেওয়া বা অনাধিকার প্রয়োগ—এ কারণে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও কলহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসলামি আদর্শ ছাড়া পারিবারিক শান্তি সম্ভব নয়।
