নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান এখন সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর মুখে মুখে আলোচিত নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের প্রতি তার নিষ্ঠা, ত্যাগ ও কর্মীদের প্রতি মমত্ববোধ আজ তাকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দল যখন দুঃসময়ে, তখন তিনি মাঠে ছিলেন। মামলা, হামলা, গ্রেফতার, হয়রানি, কিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। একসময় বিএনপির অনেক নেতা যেখানে আত্মগোপনে চলে যান, সেখানে মান্নান দিন-রাত দলের কর্মীদের পাশে থেকেছেন। কারাবন্দি নেতাকর্মীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, আইনি সহযোগিতা করেছেন, নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি বিক্রি করে দলের আন্দোলনের খরচ চালিয়েছেন, এমন খবরও দলের ভেতরে প্রচলিত।
সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা বলেন, “আমরা রাজনীতিতে অনেক নেতাকে দেখেছি, কিন্তু মান্নানের মতো ত্যাগী মানুষ খুব কমই দেখেছি। তিনি দলের স্বার্থে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছেন। তাঁর মতো নেতার জন্যই আমরা গর্ববোধ করি। কর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক রাজনৈতিক নয়, পারিবারিক। নেতা হিসেবে নয়, বড় ভাইয়ের মতো খোঁজখবর নেন প্রত্যেকের। অসুস্থ কর্মীর চিকিৎসায় সাহায্য করা, কারও বাড়ি ভাঙলে পাশে দাঁড়ানো, কারও সন্তান স্কুল-কলেজে ভর্তি করানোর চেষ্টা করা, এসব কর্মকাণ্ড তাকে সাধারণ মানুষের ঘনিষ্ঠ করে তুলেছে।
যুবদল নেতা রাকিব হাসান বলেন, মান্নান ভাই শুধু নেতা নন, তিনি আমাদের আশ্রয়। তিনি আমাদের মনোবল। যখন কেউ পাশে থাকে না, তখনও মান্নান ভাই ফোন করে খোঁজ-খবর নেন। মান্নানের এমন জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এক শ্রেণীর কুচক্রী মহল অপপ্রচারে নেমেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে এবং কিছু সংবাদকর্মীদের কাছেও মিথ্যা তথ্য পাঠাচ্ছে। কিন্তু এসব অপচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে কারণ জনগণ জানে মান্নানের রাজনীতি মিথ্যার ওপর নয়, সত্য ও মানুষের ভালোবাসার ওপর দাঁড়িয়েই মান্নানের রাজনীতি।
এই বিষয়ে আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, আমাকে নিয়ে যারা মিথ্যা প্রচার করছে, তারা মূলত বিএনপির ক্রমবর্ধমান জনসমর্থনকে ভয় পাচ্ছে। আমার রাজনীতি ক্ষমতা বা পদ নয়, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার রাজনীতি। আমি বিশ্বাস করি, সত্য সবসময় জয়ী হয়।
দলের স্থানীয় নেতারা বলছেন, মান্নান ভাইয়ের নেতৃত্বে বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ ও উজ্জীবিত। উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সব অঙ্গসংগঠন এক ছাতার নিচে কাজ করছে। সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, মান্নান ভাইয়ের ত্যাগ ও নিষ্ঠা আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। তিনি নেতার থেকেও বেশি একজন অভিভাবক।
পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী শাহজাহান মিয়া বলেন, মান্নান ভাই যখন থানার সভাপতি হন, তখন বিএনপির অবস্থা ছিল খুব দুর্বল। কিন্তু তার একাগ্রতা ও ধৈর্যে আজ আবার আমাদের সংগঠন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মান্নান আজ সেই বিরল নেতৃত্বের উদাহরণ, যিনি দলের সংকটেও নিজের অবস্থান থেকে এক ইঞ্চি সরেননি। তার শান্ত, সংযত ও দায়িত্বশীল রাজনীতি তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করছে।
সম্প্রতি সোনারগাঁয়ের বারদী, পিরোজপুর, মোগরাপাড়া, কাঁচপুর ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভা করেছেন তিনি। প্রতিটি কর্মসূচিতে উপচে পড়া জনসমাগম হচ্ছে। নারীরা, শ্রমিকরা, তরুণ ভোটাররা সবাই বলছেন, মান্নান ভাই পরিবর্তনের প্রতীক।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, তারা মান্নানকে শুধু রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, একজন “মানবিক মানুষ” হিসেবেই চেনে। তার আচরণ, সততা, বিনয়, ও দলীয় কর্মীদের প্রতি ভালোবাসা তাকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।
মান্নান বলেন, আমার রাজনীতি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। আমি চাই এই দেশের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে, ভোট দিতে পারে, ন্যায়বিচার পায়। আমার জীবনের লক্ষ্য বিএনপির আদর্শ বাস্তবায়ন করা। দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো দলের স্বার্থের বাইরে এক পা এগোননি। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, আজহারুল ইসলাম মান্নানের মতো নেতারাই ভবিষ্যতের রাজনীতিতে নতুন দিশা দেখাবেন।
বর্তমান সময়ে যখন অনেক নেতা রাজনীতিকে ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত স্বার্থে, সেখানে আজহারুল ইসলাম মান্নান হয়ে উঠেছেন ত্যাগ, নৈতিকতা ও মানবিক নেতৃত্বের প্রতীক। সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জের রাজনীতিতে এখন একটাই কথা, যে নেতা ত্যাগী, যে নেতা আমাদের পাশে, সেই নেতা মান্নান ভাই।
